সীমা সরকারের ভিডিও এখানে আছে। সীমা অনন্য এবং অনুপ্রেরণাদায়ক গল্পের জন্য পরিচিত। সীমা সরকারনেত্রকোনার একটি সাধারণ পরিবারের নারী। তিনি সারা দেশে আলোচনায় আসেন ২০১৮ সালের দিকে, যখন একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ছবিতে দেখা যায়, তিনি তার শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোর ছেলেকে কোলে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নিয়ে এসেছেন। সীমা সরকারের ছেলে হৃদয় সরকার ছিল প্রতিবন্ধী কিন্তু এই প্রতিবন্ধীকতাকে বাধা হয়ে দাড়াতে দেয়নি সীমা সরকার। হৃদয়কে স্কুলে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সীমা সরকার তাকে নিজের কোলে করে বহন করেছেন। বছরের পর বছর তিনি ছেলেকে কোলে করে ক্লাস করিয়েছেন সমাজের এই নানা কটুকথা উপেক্ষা করে তিনি ছেলের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
সীমা সরকারের ভাইরাল ভিডিও
২০১৮ সালে হৃদয় সরকার যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় একটি বড় বাধা ছিল। তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী, কেবল দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধীরাই প্রতিবন্ধী কোটার সুযোগ পেত। হৃদয়ের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য কোনো স্পষ্ট কোটা ছিল না। সীমা সরকারের সেই ভাইরাল ছবি এবং হৃদয়ের মেধার কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে আইন শিথিল করে তাকে ভর্তির সুযোগ দেয়। এটি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন নিয়ে আসে।
তার মায়ের এই অধম্য চেষ্টায় হৃদয় সরকার সফলভাবে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। সীমা সরকারের এই অসামান্য মাতৃত্ব এবং ত্যাগের জন্য তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।তার এই জীবন কাহিনী বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক বাবা-মায়ের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তার এই অনুপ্রেরণামূলক জীবন কাহিনী নিয়ে বিভিন্ন সময় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ডকুমেন্টারি বা প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন টক-শোতে আমন্ত্রিত হয়েছেন।সীমা সরকারের এই গল্পটি বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে।
তার কারণে অনেক বাবা-মা যারা তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের ঘরে বসিয়ে রাখতেন, তারা এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে উৎসাহ পাচ্ছেন।যেখানে রাষ্ট্র বা সমাজ অবকাঠামো তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে একজন মা তার নিজের শরীরকে বাহন বানিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করেছেন।” তিনি তার সংগ্রামের জন্য বাস্তব জীবনেই মানুষের কাছে একজন “নায়িকা” বা আদর্শ মা হিসেবে সমাদৃত। তিনি বড় কোনো নায়িকা না হয়েও সবার মনে এক অনন্য আলোরন সৃষ্টি করেছেন।
তিনি কেবল একজন মা নন, তিনি প্রতিটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন যোদ্ধা।সীমা সরকারের জীবন কাহিনী কেবল একজন মায়ের কষ্টের গল্প নয়, বরং এটি অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং শিক্ষার প্রতি একনিষ্ঠার প্রতীক। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মায়ের মমতা এবং সহযোগিতা থাকলে যেকোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতা জয় করে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
